(৬) ভাগ্যং ফলতি সর্ব্বত্রং। সত্যনারায়নের সেবা করুন তাঁর ভাগ্য নাই, প্রকৃতি হইতেই বিভক্ত হইয়া থাকে। সেই প্রকৃতি ত্রিগুণের বশে আকৃষ্ট হইয়া বহু রকম অবস্থায় বিকৃত হইয়া নানান উপাধি সাগরে উর্দ্ধ অধ: গতিদ্বারা জীবগণের লাঞ্চনা ভোগ সর্ব্বদা ঘটিয়া থাকে। মনের দ্বারাই এই ভোগ হয়। ………সঙ্করের নিকট ঋণ দায়ে ত্রিলোক ঠেকা হেতু কালচক্রে সকল ঘুরিয়া বেড়ায়। ইহাকেই জন্মমৃত্যু বলে। ভাগ্য অনুসারে যোগাযোগ, আপন-পর, শত্রু-মিত্র, শান্তি-অশান্তি, সুখ-দুঃখ লাভ করে। ইহাই ভোগ বলিয়া জানিতে হয়। ভাগ্য ভোগ দান [ত্যাগ] হইলে সত্যনারায়ণকে পাওয়া যায়, তাঁহাকে পাইলে ভাগ ভোগ থাকে না। কারণ প্রকৃতির সীমার পার হয়। ইহাকেই প্রাণ (পরায়ণ) বলিয়া জানিবেন। ইহাকেই সত্য-নারায়ণের সিন্নি (ভিন্ন বুদ্ধি না করা), ইহাকেই সত্যনারায়ণের সেবা বলে। …………অহংকার অর্থাৎ সীমাবদ্ধ হইয়া কর্ত্তা অস্থায়ী বিচার করিয়া তাতে আবদ্দ থাকে। তাহাতেই আপনার দোষ না দেখিয়া পরদেহে দোষ দৃষ্টি দর্শন করে। যেমন মেঘ সূর্য্যকে আচ্ছন্ন করে, সূর্য্য তাতে মলিন হয় না, সে পবিত্রই থাকে। মেঘই নষ্ট হইয়া পড়ে। অহংকার দোষই যাইবে, কিন্তু পিতা-মাতা নষ্ট হয় না। পিতাস্বর্গ: পিতাধর্ম্ম: পিতাহি পরমন্তপ:। পিতৃসেবায় রত সত্যবানের উপাখ্যান দ্রষ্টব্য। পুত্র কর্ত্তৃত্ব করিয়াই মাতৃকোল অধীরতা (অসত্যতা) হেতু কর্ত্তাপাশে বদ্ধ হইয়া মায়ের কোল ত্যাগ করিয়া বিবিধ পাশে বদ্ধ হইয়া এই ভবাদ্ধি অকূল সাগরে উর্দ্ধ অধ:-গতিতে জীব সকল লাঞ্চিত হইয়া থাকে। কাজেই পিতামাতা যে সত্যব্রত ভুলিয়া স্বয়ং কর্ত্তা হইয়া দিশাহারা হয়। যাহা হউক, সত্য-নারায়ণের ব্রত ভুলিবেন না। ………ভগবানের পিতৃমাতৃ দত্ত দুটি কুল, উভয়ের দোষগুণ পরিত্যাগ করিয়া ধৈর্য্যের দ্বারা প্রাণে প্রাণে অভিন্নরুপে পিতামাতার সেবাকার্য্যের শক্তি আহরণ করুন, ইহাতে পিতা মাতা পুত্র তিন কুল মুক্ত করিতে পারিবেন। তখন সত্যবস্তুর উপলব্ধি হইবে, স্বরুপ পাইবেন।
🌺 বেদবাণী তৃতীয় খণ্ড 🌺
সত্যনারায়ণের সেবা, ভাগ্যভোগের অবসান ও পিতৃমাতৃসেবার মহিমা
শ্রীশ্রী রামঠাকুর এই বাণীতে জীবনের গভীর আধ্যাত্মিক সত্য উন্মোচন করেছেন।
“ভাগ্যং ফলতি সর্বত্রং” — অর্থাৎ, জীব নিজের কর্মফল ও ভাগ্যানুসারেই সুখ-দুঃখ, শান্তি-অশান্তি, আপন-পর, শত্রু-মিত্র প্রভৃতি লাভ করে। এই ভোগই জন্ম-মৃত্যুর চক্রে জীবকে আবদ্ধ রাখে।
প্রকৃতি ত্রিগুণের (সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ) প্রভাবে জীবকে নানা উপাধি, কামনা ও আসক্তির মধ্যে আবদ্ধ করে। মনের দ্বারাই এই সমস্ত ভোগ ও দুঃখের অনুভব ঘটে। ফলে জীব বারবার জন্ম-মৃত্যুর আবর্তে ঘুরিয়া বেড়ায়।
কিন্তু—
🙏 সত্যনারায়ণের সেবা করিলে ভাগ্যভোগের অবসান ঘটে।
🙏 সত্যনারায়ণকে লাভ করিলে প্রকৃতির সীমা অতিক্রম করা যায়।
🙏 তখন জীব আর সুখ-দুঃখের দ্বন্দ্বে আবদ্ধ থাকে না।
ঠাকুর বলিয়াছেন, সত্যনারায়ণের সিন্নি অর্থাৎ ভিন্ন বুদ্ধি না করা, সকলের মধ্যে এক পরম সত্যকে উপলব্ধি করা—ইহাই প্রকৃত সেবা।
🌿 অহংকারই বন্ধনের মূল
অহংকার মানুষকে সীমাবদ্ধ করে। তখন সে নিজের দোষ না দেখিয়া অন্যের দোষ অনুসন্ধান করে।
ঠাকুর একটি অপূর্ব উপমা দিয়েছেন—
“যেমন মেঘ সূর্যকে আচ্ছন্ন করে, কিন্তু সূর্য মলিন হয় না; মেঘই বিলীন হয়।”
তদ্রূপ অহংকার ও অজ্ঞান একদিন নষ্ট হয়, কিন্তু সত্য কখনও নষ্ট হয় না।
👨👩👦 পিতৃমাতৃসেবার মহিমা
শাস্ত্রে বলা হয়েছে—
“পিতা স্বর্গঃ, পিতা ধর্মঃ, পিতাহি পরমং তপঃ।”
অর্থাৎ, পিতা স্বর্গস্বরূপ, ধর্মস্বরূপ এবং পরম তপস্যার আধার।
ঠাকুর শিক্ষা দেন—পিতা ও মাতার সেবা কেবল সামাজিক কর্তব্য নয়, ইহা আধ্যাত্মিক সাধনার এক মহৎ পথ। ভগবানপ্রদত্ত দুই কুলের (পিতৃকুল ও মাতৃকুল) দোষ-গুণের বিচার না করে ধৈর্য, প্রেম ও শ্রদ্ধার সহিত তাঁদের সেবা করিতে হইবে।
🌸 পিতৃমাতৃসেবায় আত্মনিয়োগ করলে হৃদয়ে সত্যের শক্তি জাগ্রত হয়।
🌸 পিতা-মাতা-পুত্র—এই তিন কুলের কল্যাণ সাধিত হয়।
🌸 তখন জীব নিজের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করিতে সক্ষম হয়।
✨ মূল শিক্ষা
✔ ভাগ্য অনুসারেই জীব সুখ-দুঃখ ভোগ করে।
✔ সত্যনারায়ণের সেবাই ভাগ্যভোগের বন্ধন ছিন্ন করে।
✔ অহংকার জীবকে অন্ধ করে, সত্য হইতে দূরে সরায়।
✔ পিতৃমাতৃসেবা আধ্যাত্মিক উন্নতির এক মহান সোপান।
✔ সত্যব্রত পালন করিলে জীব নিজের স্বরূপ লাভ করে।
🙏 সত্য-নারায়ণের ব্রত কখনও ভুলিবেন না। সত্যের আশ্রয়ই জীবনের প্রকৃত মুক্তি।
জয় রাম । জয় গোবিন্দ ।
“বাণীর আলোকে পথ চলা (Banir Aloke Poth Chala) – Sri Sri Ramthakur-er Potransho-er Byakhya”
✍️ সুব্রত মজুমদার
#বেদবাণী #বেদবাণীতৃতীয়খণ্ড #শ্রীরামঠাকুর #সত্যনারায়ণ #পিতৃমাতৃসেবা #জয়রাম #জয়গোবিন্দ #আধ্যাত্মিকজ্ঞান #সত্যব্রত #ভাগ্যংফলতিসর্বত্রং #সনাতনধর্ম #Ramthakur #Bedabani #JoyRam #SpiritualWisdom #TruthPath #ParentService #BanirAlokePothChala #SriSriRamthakur #SanatanDharma
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel)
on
জুন ০৩, ২০২৬
Rating:
.jpg)
কোন মন্তব্য নেই: